কাঁচামরিচ আমদানি শুরু স্থলবন্দর দিয়ে
দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়ায় দীর্ঘ সাড়ে ৮ মাস বন্ধের পর আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। এতে করে বন্দরে আমদানিকারক ও শ্রমিকদের মাঝে কর্মচঞ্চল্যতা ফিরতে শুরু করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ভারত থেকে কাচামরিচবোঝাই ট্রাক দেশে প্রবেশের মধ্য দিয়ে পুনরায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। বগুড়ার রাজ এন্টারপ্রাইজ ও মাহাদি এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ৩টি ট্রাকে ২১ টন কাঁচামরিচ আমদানি করেছে। ভারতের কাটিহার থেকে এসব কাঁচামরিচ আমদানি করা হচ্ছে। এতে করে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম অনকটাই কমে আসবে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
এর আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ গতবছরের ২০ নভেম্বর ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচামরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে চাহিদামাফিক না পাওয়ার কারণে দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। যেহেতু ভারতে কাঁচামরিচের দাম কম রয়েছে তাই দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি চেয়ে আসছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। হিলি স্থলবন্দরের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। এরপরে অনেকেই এলসি খোলা থেকে অন্য যেসব প্রক্রিয়া সেটি সম্পূর্ণ করছেন। ফলে বিকেল থেকে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথমদিন হওয়ায় আমদানির পরিমাণ কিছুটা কম হলেও আগামীকাল থেকে বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানির পরিমাণ আরও বাড়বে। এতে করে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমে আসবে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, দেশে কাচামরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠলে গতকাল সরকার কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয়। সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দরের ৭৪ জন আমদানিকারক ২৭ হাজার ১১০ টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। ইতোমধ্যেই বিকেল থেকে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। দ্রুত আমদানিকৃত কাঁচামরিচের নমুনা সংগ্রহ করে তার সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে এরপর তারা বন্দর থেকে খালাস নিতে পারবেন।