সিলেটে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডে পণ্যে বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে হিমশিম খাওয়া মানুষের কাছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্যের ওপর আগ্রহ বাড়ছেই। আগে স্বল্প আয়ের মানুষ টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডে পণ্য কিনলেও এখন সরকারি, বেসরকারি চাকরীজীবি, ব্যবসায়ী সবাই এখান থেকে পণ্য কিনছেন। সিলেটে বিভিন্ন স্থানে টিসিবির ডিলারের কাছ থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি জেনেও ভোর ছয়টা থেকে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন এসব মানুষ।
তাই প্রতিনিয়ত টিসিবির পণ্য কিনতে দীর্ঘ হচ্ছে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের লাইন। প্রতিদিন ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়াতে যেন প্রতিযোগিতা।এদিকে, অভিযোগ উঠেছে, ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনের ব্যবস্থাপনার কোন সরকারি কর্মকর্তা থাকে না। ফলে অনেকেই একাধিক কার্ড দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে পণ্য নিয়ে যায়।সিলেট সিটি কর্পোরেশনে১৯নং ওয়ার্ডে দুইজন ডিলার থাকায় ক্রেতাদের পড়তে হয় বিরম্বনার ডিলারদের কাছে টিসিবির কার্ড নিয়ে আসলে বলে এই কার্ড আমার না আপনি শাহী ঈদগায় অবস্থিত জাকির স্টোরি কাছে যান।
জুলাই মাসে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডে পণ্য বিক্রয়ের কয়েকটি স্পট ঘুরে দেখা যায়, টিসিবির ডিলারদের দোকানে পিছনে দীর্ঘ লাইন। তবে আবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কোনো কর্মী না থাকায় অনেক নারীকেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।এদিকে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। জায়গা হারানোর ভয়ে লাইন থেকে সরছেন না তারা। নিজেদের মধ্যে জায়গায় দাঁড়ানো নিয়ে ঝগড়া করতেও দেখা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে ডিলাররা না আসায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মহিলা ও বৃদ্ধরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা যায়।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ১৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মুরাদ স্টোর নামে টিসিবি ডিলারের দুর্নীতি অভিযোগ করেছে ক্রেতারা প্রতি মাসে টিসিবির পণ্য না দিয়ে অন্যতায় বিক্রি করে ফেলে সোমবারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় টিসিবির পণ্যের জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দোকানে কর্মচারীর সাথে কথা বললে সে জানায় ২টার পর টিসিবি পণ্য বিক্রয় করা হবে।
শাহী ঈদগায় সড়কে ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়েছিলেন ৬৫ বছর বয়সি বৃদ্ধা। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের পণ্য ক্রয়ের জন্য সিরিয়াল দিলেও পণ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় খালি হাতেই বাড়িতে ফিরতে হয় তাকে। সেজন্য সোমবার সকাল-সকাল এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। শুধু রোকেয়া বেগমই নন, টিসিবির তেল, ডাল, চিনি কেনার জন্য ব্যাগ হাতে এমনভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকেই। বাজারে বর্তমানে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ২০০ থেকে ২০৫ টাকা। টিসিবির সে তেল মিলছে ১০০ টাকা লিটার। এতে ২ লিটার তেলে প্রায় ১০০ থেকে ১০৫টাকা সাশ্রয় হয়। ডাল বাজারে মানভেদে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা কেজি। টিসিবির ট্রাকে ডাল পাওয়া যায় ৬০ টাকা কেজি। চিনি বাজারে ১০৫ থেকে১১০ টাকা কেজি। টিসিবির ট্রাকে ৭০ টাকা কেজি। জনপ্রতি টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডে ২ লিটার তেল ২ কেজি ডাল ও ১ কেজি চিনি সাবান,হুইল পাউডার কিনতে পারেন। এতে অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা সাশ্রয় হয়।