শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

সিলেট-১ আসনে মুল লড়াইয়ে মুক্তাদির-হাবিব

ডেস্ক রিপোর্ট / ১০৪ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
সিলেট-১ আসনে মুল লড়াইয়ে মুক্তাদির-হাবিব

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি কথা আছে- ‘সিলেট-১ আসন যার, সরকার তার’। স্বাধীনতার পর এই পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে এই আসনে জয়ী ব্যক্তির দল সরকার গঠন করায় এটা অনেকের বিশ্বাসের পর্যায়ে চলে গেছে। মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে এবার জমে ওঠেছে নির্বাচনের মাঠ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এবার আমেজটাও ভিন্ন।

এই আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হক।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও মাওলানা হাবিবুর রহমানের তুলনায় এনসিপির এহতেশামুল হক একেবারে নতুন। এর মুক্তাদির নির্বাচন করেছেন সিলেট-১ আসনে আর হাবিবুর রহমান নির্বাচন করেছেন সিলেট-৬ আসনে।

ভোটারদের ধারণা, এবার সিলেট-১ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও মাওলানা হাবিবুর রহমানের মধ্যে। অবশ্য নতুনত্ব বিবেচনা করলে এহতেশামকেও বাদ দেওয়া যাবে না। এটির তার জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ। তবে সিলেট-১ আসনে খন্দকার মুক্তাদিরের নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাছাড়া বড় রাজনৈতিক দল ও অভিজ্ঞতা হিসেব করলে ভোটের দৌড়ে মুক্তাদিরই সবার আগে।

এই তিনজন ছাড়াও সিলেট-১ আসনে মাঠে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আবদুল মালেক চৌধুরী, খেলাফত মজলিশের তাজুল ইসলাম হাসান, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি ফজলুল হক জালালাবাদী।

সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসন। ৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৭১ জন ভোটার রয়েছেন এই আসনে। দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ আসনে স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিশ্বাস এ আসনে যে দল বিজয়ী হয়, দেশ শাসনক্ষমতাও পায় সেই দলই। বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন দুই উপদেষ্টা সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পরে আরিফুল হক নিজেকে সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী বলে প্রচারণা শুরু করলে সিলেট-১ আসনে মুক্তাদিরের পথ কিছুটা সহজ হয়। শেষ পর্যন্ত বিএনপিও মুক্তাদিরের উপর ভরসা রাখে।

অন্যদিকে, বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত মাওলানা হাবিবুর রহমান। ঘরে ঘরে লিফলেট বিলি করে তিনি ব্যাপক জনসংযোগ চালাচ্ছেন। প্রার্থিতা নিয়ে দলে কোনো বিরোধ বা অসন্তোষ নেই এটাই তাঁর জন্য বাড়তি সুবিধা। ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করে ১৯৮২ সালে জামায়াতে যোগ দেন হাবিবুর রহমান। জেলা আমিরসহ দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি একীভূত সিলেট জেলা আমির এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরার সদস্য। আগে সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করলেও এবার প্রথমবারের মতো সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং কর্মীরা তাকে ঘিরে প্রাণপণ প্রচারে নেমেছেন।

রিকাবীবাজার এলাকার বাসিন্দা ফুয়াদ হাসান বলেন, সিলেট-১ আসনটি সিলেটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই পরিচিত সেজন্য এই আসনের একজন সচেতন প্রার্থীর খুব প্রয়োজন। বিগত সময়ে নির্বাচনের পরিবেশ ছিল না। এবার যেহেতু পরিবেশের ভিন্নতা এসেছে সেক্ষেত্রে আশা করছি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপি এবং জামায়াত মনোনিত প্রার্থীর মধ্যে।

সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ও নতুন তরুণ ভোটার নাজমুল আলম বলেন, সিলেটের অর্থনীতির বিরাট একটা অংশ। কিন্তু নির্ধারণ হয় সিলেট-১ আসনেই। সেজন্য আমরা চাইবো যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা যেনো তরুণ ভোটারদের দিকে নজর দেন। তাদের নিয়ে কিছু করা যায় কি না ভেবে দেখেন।’

সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দীর্ঘদিন পর নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে এসেছে। প্রার্থী হিসেবে আমি বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি, মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তারাও বলছেন ভোটের পরিবেশ ফিরে এসেছে। সুষ্ঠু ভোট হলে মানুষ তার যোগ্য প্রার্থীকেই ননির্বাচিত করবে। সিলেটের বেকার তরুণ ও যুবকদের কাজে লাগানোর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা তাদের নিয়ে কাজ করব। এই অঞ্চলটা অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তুলবো।

জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছি তাদের দুঃখ দুর্দশার কথাগুলো শুনেছি। তাদের একটিই কথা পরিবর্তন, সেই পরিবর্তন আশা করি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই ভোটের মাধ্যমেই আসবে।

এনসিপির প্রার্থী এহতেশামুল হক বলেন, সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়, আমরাও পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমি তরুণ প্রার্থী হলেও আশাবাদী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে।


এই বিভাগের আরো খবর